তাপমাত্রা বেশি হলে করোনা টিকে না, এটি ভুল ধারণা : জর্জ গাও
অনেকে মনে করেন তাপমাত্রা বেশি হলে করোনা টিকে না, এটি ভুল ধারণা বলে জানিয়েছেন চীনকে করোনামুক্ত করার প্রধান বিজ্ঞানী জর্জ গাও। সায়েন্স ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন তিনি। চীনের রো গ প্রতি’রোধ বিষয়ক সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ চায়নিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মহাপরিচালক তিনি।
তার মতে, করোনাভাই'রা স একটি ‘এনভেলপড ভাই'রা স’। লোকে ভাবে, এটি খুবই ক্ষণায়ু এবং তাপমাত্রা বেশি আছে এমন জায়গায় এটি বেশিক্ষণ টেকে না। কিন্তু যু'ক্তরাষ্ট্র এবং চীন দুই জায়গার গবেষণাতেই দেখা গেছে, ভূপৃষ্ঠে এটি যেকোনো পরিবেশে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে খুবই পারঙ্গম। নানা ধরনের পরিবেশ-প্রতিবেশে এটি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম।
যেমন ভা'রতে তাপমাত্রা বেশি কিন্তু আশ ঙ্কা করা হচ্ছে ওখানেও ভাই'রা সটি ব্যাপকহারে ছড়াবে। এরিমধ্যে বেশ কিছু উচ্চ তাপমাত্রার দেশেও এ ভাই'রা সটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। এটি এনভেলপড ভাই'রা স হওয়ার কার ণে তাপমাত্রা কোনো বিষয় না। সৌদি আরবের তাপমাত্রা কম না, বেশিই। কিন্তু ওখানে মানুষ আক্রা ন্ত হচ্ছে।
ফ্রান্সের করোনাভাই'রা স পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাসীকে হু শিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদোয়ার্ড ফিলিপ। তিনি বলেছেন, সামনে আরও ভ য়ঙ্কর দিন আসছে। দেশজুড়ে করো’নার সুনামি বয়ে যেতে পারে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা ক ঠিন হবে বলেও কড়া সত’র্কতা জারি করেছেন তিনি।
করোনা নিয়ে রাজধানী প্যারিসে শুক্রবার মন্ত্রিসভা'র এক জরুরি বৈঠক করেন ফিলিপ। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আম'রা এক মহা সং কটের মধ্যে আছি। যা বহুদিন স্থায়ী হতে পারে। দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
লন্ডন, মাদ্রিদ ও নিউইয়র্কের মতো স্রোতের মতো করোনার রো গী আসছে প্যারিসের হাস পাতালগুলোতে। প্রা'ণ বাঁ'চাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎ সক ও নার্সরা। এদিকে করোনা রো গীর চিকিৎ সায় ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতোই ফ্রান্সে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা। এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে প্রতি তিন দিনে আক্রা ন্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে।
পরিস্থিতিকে ইতিমধ্যে ‘অ'ত্যন্ত ভ য়ংকর’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান জেরোম সলোমন। দেশটির ২৫ হাজারের বেশি ব্যক্তি করোনায় কবলে পড়েছেন। মা রা গেছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি। মৃ ত্যুর হার ২১ শতাংশে। তবে মৃ ত্যুর এই সংখ্যাটি কেবল হাস পাতাল নির্ভর। স্পেনের মতো বাড়িতে বাড়িতে বহু বুদ্ধ মানুষ মা রা গেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এটা যু'ক্ত হলে মৃ ত্যুর মিছিল আরও বড় হবে।
প্রা’ণঘা তী এই ভাই'রা সের বিস্তার রোধে ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই সর্বোচ্চ জননিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সারাদেশে লকডাউন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে থমকে আছে ফ্রান্সের স্বাভাবিক জীবনযাপন।
গত ১৪ মা'র্চ থেকে দেশটিতে ফার্মেসি, গ্রোসারি শপ, টোব্যাকো শপ, পোস্ট অফিস, ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন।
এখন পর্যন্ত ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে করো’নার প্রকো’প ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশে ৭ লাখ ২৩ হাজার ১২৪ জন করোনায় আক্রা ন্ত হয়েছে। অ'পরদিকে ৩৩ হাজার ৯৮৬ জনের প্রা’ণ কেড়েছে করোনা। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৯৮ জন।
গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করো’নার উপস্থিতি ধ'রা পড়ে। এরপরেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রা’ণঘা তী এই ভাই'রা সের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, গত কয়েকদিনে চীনে করো’নায় আক্রা ন্ত ও মৃ ত্যুর সংখ্যা কমতে থাকলেও অন্যান্য দেশে দ্রুত গতিতে এই ভাই'রা সের বিস্তার হচ্ছে।
বর্তমানে করো’নায় সবচেয়ে বেশি আক্রা ন্তের সংখ্যা যু'ক্তরাষ্ট্রে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতেই করোনার প্রকো’প ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রা ন্ত ও মৃ ত্যু হচ্ছে নিউ ইয়র্কে।
এক মাস আগে নিউ ইয়র্কে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধ'রা পড়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওই অঙ্গরাজ্যে করোনায় আক্রা ন্ত ও মৃ ত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। সেখানে মৃ ত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধুমাত্র নিউ ইয়র্ক শহরে মৃ ত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭৬ জনে। অ'পরদিকে পুরো নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ২৬ জনের মৃ ত্যু হয়েছে। অর্থাৎ সেখানে প্রতি ৯ মিনিটে একজন করে করো’নায় আক্রা ন্ত হয়ে মা রা যাচ্ছে।
গত ১ মা'র্চ নিউ ইয়র্কে ই'রানফেরত একজন প্রথম করো’নায় আক্রা ন্ত হয়। এর দু’দিন পরেই সেখানে দ্বিতীয় আক্রা ন্তের খবর পাওয়া যায়। এরপর থেকেই ওই অঙ্গরাজ্যে দ্রুত গতিতে করোনার প্রকো’প ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, করোনার ‘হটস্পট’র হিসেবে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং কানেক্টিকাটের কথা উল্লেখ করে ওই তিন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেল সরকার।
মা'র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা'ম্পের নির্দেশেই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ট্রা'ম্পের এমন নির্দেশের কার ণে তাকে নিয়ে বেশ সমা’লোচনা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এমন নির্দেশনার মাধ্যমে ট্রা'ম্প আসলে সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে করোনা ভাই'রা স কোথায় কোথায় আছে।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রিউ কুমোসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এভাবে কোয়ারেন্টাইন আরোপের বিরো ধিতা করেছেন।
এদিকে, যু'ক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন করে আরও ১৮ হাজার ৪২৬ জন করো’নায় আক্রা ন্ত হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত মোট আক্রা ন্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৪ জন। অ'পরদিকে দেশটিতে প্রা’ণঘা তী করো’নায় আক্রান হয়ে নতুন করে আরও ২৬৪ জনের মৃ ত্যু হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত মা রা গেছে ২ হাজার ৪৮৪ জন।
যু'ক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাস পাতা'লে চিকিৎ সা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪ হাজার ৫৫৯ জন। তবে হাস পাতা'লে চিকিৎসাধীন ২ হাজার ৯৭০ জনের অবস্থা আশ ঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
