মধ্যবিত্তদের পাশে কেউ নেই রাজধানীর মিরপুর - ১ নম্বরে ইলেকট্রিক দোকানের ব্যবসা আছে আহম্মদুল হকের । ভালােই চলে তার দোকান । দু ' জন কর্মচারীও আছেন । তিন ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ভাড়া বাসায় । ব্যবসা থেকে যে আয় হয় তাতেই সংসারটা ভালােভাবে চলে যায় । কিন্তু তার কোনাে সঞ্চয় নেই । গত তিন বছর ব্যবসা করলেও এমন সংকটে কখনােই পড়েননি তিনি । এক সপ্তাহ ধরে দোকান বন্ধ । হাতে কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে ১০ দিনের বাজার করেছেন । করােনা পরিস্থিতির কারণে কঠিন অনিশ্চয়তায় পড়ে অন্ধকার দেখছেন চোখেমুখে । সমি । টালারবাগত এলাকা গেইট নং - ১ ] কীভাবে দোকান ভাড়া দেবেন , কীভাবে সংসার চালাবেন , সেই চিন্তায় ঘুম আসে না তার । মাঝেমধ্যে গভীর রাতে আঁতকে । ওঠেন তিনি । কিন্তু কাউকে এমন কষ্টের কথা বলতেও পারছেন । অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন , ' বড় লােকের টাকার । অভাব নেই । গরিবরা ত্রাণ পায় । আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে | চোখের পানি লুকায় । কাউকে প্রকাশ করতে পারে না ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি চাকরি করেন একটি বিদেশি পােশাক কারখানায় । বেশ ভালােই বেতন পেতেন । এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন । কিন্তু করােনার প্রাদুর্ভাবের । কারণে বর্তমানে কারখানা বন্ধ । এর আগ থেকেই বিদেশি অর্ডার হওয়ায় দুই মাস ধরে বেতন হচ্ছে না । এই অবস্থায় চিন্তায় তার মাথায় হাত । কী করবেন , কী করা উচিত , ভেবে উঠতে পারছেন না । করােনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সারাদেশে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে গৃহবন্দি সাধারণ মানুষ । নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে খাবার এবং প্রয়ােজনীয় দ্রব্য তুলে দিচ্ছেন অনেকেই । সরকারও গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে । তবে মধ্যবিত্তের পাশে নেই কেউ । ঘরে খাবার না | থাকলেও মধ্যবিত্তরা লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না । সারাদেশে লাখ লাখ মধ্যবিত্তের অবস্থাও প্রায় একই । মিরপুরের দারুস সালাম এলাকায় কথা হয় এক ব্যক্তির সঙ্গে । তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের লােক । আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন , ' এটা কোনাে জীবন হলাে । সংসার চালাতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে । চক্ষুলজ্জায় কষ্টগুলাে প্রকাশ করা যায় না । ওই যে আমরা মধ্যবিত্ত । আমাদের কোনাে কষ্ট নেই । আছে শুধু সুখ । কিন্তু এর আড়ালে আমরা যে কত কষ্টে জীবনযাপন করি , তা বােঝানাে । যায় না । কেউ বােঝারও চেষ্টা করে না । করােনায় দু ' জন মারা যাওয়ার ঘটনায় মিরপুরের উত্তর টোলারবাগ এলাকা লকডাউন হয়ে আছে এক সপ্তাহ ধরে । ফলে ঘরবন্দি কয়েক হাজার মানুষ । সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে প্রতিদিনই কেউ না কেউ খাবার বিতরণ করেন । কিন্তু মধ্যবিত্তরা আছেন বড় বিপদে ।
ওই এলাকায় বসবাস করেন এমন একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী বলেন , নিম্নবিত্তের লােকজন তাে সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে , বেসরকারি সহায়তা পাচ্ছে , কিন্তু মধ্যবিত্তের কী হবে ? তার ঘরে খাবার শেষ হয়ে আসছে । এখন অল্প অল্প করে খাচ্ছেন । ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায় । কারণ তারা কখনােই খাবারের কষ্ট করেনি । খাবার টেবিলে বসলে । কান্না আসে । ' তথ্য সূত্র - সমকাল
