গত ২৪ ঘন্টায় কুমিল্লায় রেকর্ড সংখ‌্যক করোনায় আক্রান্ত।

গত ২৪ ঘন্টায় কুমিল্লায় ১৬ জন ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৭ জন। অপরদিকে ক’রোনার উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি কুমিল্লা নগরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, এপসম হাসপাতাল ও এমআরআই পয়েন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় হাসপাতাল তিনটি লকডাউন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জে’লা প্রশা’সন ও সেনাবা’হিনী গিয়ে হাসপাতাল তিনটি লকডাউন করে।
জানা গেছে, কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজে’লার বরকামতা ইউনিয়নের বাগুর গ্রামের এক ব্যক্তি ক’রোনার উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে ঝাউতলা এলাকার এপসম হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করান।
এরপর তিনি এমআরআই পয়েন্ট হাসপাতালেও পরীক্ষা করান। পরে তিনি বাদুরতলা এলাকার ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। সম্প্রতি বাগুর গ্রামে ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে এক ইউপি সদস্য মা’রা গেছেন।
তাই ওই ব্যক্তিকে নিয়ে জে’লা ক’রোনাবিষয়ক কমিটির স’ন্দেহ হয়। এরপর মঙ্গলবার ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে কুমিল্লা জে’লা প্রশা’সনের নির্বাহী হাকিম শারমিন আরা হাসপাতাল তিনটি লকডাউন করেন।
এ সময় সেনাবা’হিনীর ক্যাপ্টেন সাইফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. সাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘দেবীদ্বারের বাগুর গ্রামের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা আছে।
সেখানকার একজন ইউপি সদস্য ক’রোনায় মা’রা গেছেন। ওই গ্রামের একজন লোক এসে কুমিল্লা শহরের তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাই হাসপাতাল তিনটি লকডাউন করা হয়েছে। আমরা ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেছি। পরীক্ষার ফল আসা পর্যন্ত হাসপাতাল তিনটি লকডাউন থাকবে।’
গত ২৪ ঘন্টায় আ’ক্রন্ত ১৬ জনের মধ্যে তিতাসে ১ জন, বরুড়ায় ১ জন, মনোহরগঞ্জে ২ জন,দেবিদ্বারে ৬ জন ও লাকসামে ৬ জন। এখন পর্যন্ত সব মিলে কুমিল্লায় মোট ৬৮ জন আ’ক্রান্ত হলেন।
অপরদিকে কুমিল্লায় ক’রোনা ভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত এক রোগী জানালা কে’টে বাড়ি ছেড়ে পা’লিয়ে যাওয়ার পর এখনো তাকে আ’টক করা যায়নি। শুক্রবার রাতে মুরাদনগর উপজে’লার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে লকডাউনে থাকা একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শনিবার দুপুরে উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার (ইউএনও) নির্দেশে ওই ব্যক্তির স’ন্ধানে মাঠে নামে পু’লিশ। মুরাদনগরের ইউএনও অভিষেক দাস জানান, গত কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে কাজিয়াতল এলাকায় গ্রামের বাড়িতে আসেন ওই ব্যক্তি।
বিষয়টি জানার পর আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করি। আইইডিসিআর থেকে দেওয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায় ওই ব্যক্তি ক’রোনা ভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ওই ব্যক্তির ঘরটি আইসোলেশনের জন্য নির্বাচন করে বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়। ঘরের বাইরের দিক থেকে তালা থাকলেও জানালা কে’টে শুক্রবার রাতের যেকোনো সময় ওই ব্যক্তি পা’লিয়ে যান।
মুরাদনগর উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. নাজমুল আলম জানান, রোগীর শরীরে বাহ্যিক কোন লক্ষণ না থাকায় তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে না রেখে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিলো। পরে বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, এখন যদি পা’লিয়ে যাওয়া এই রোগী কারও সং’স্পর্শে যান, তাহলে ওই ব্যক্তিও সং’ক্রমিত হওয়ার আ’শঙ্কা রয়েছে। তাই তাকে যারা চেনেন, পু’লিশকে তাদের সহায়তা করা প্রয়োজন।