ক্রিকেটার রফিকের কেউ খোঁজ নেয়না

 প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তার আবির্ভাব হয়েছিল বাঁহাতি পেসার হিসেবে। সেই মোহাম্মদ রফিক সময়ের স্রোতে হয়ে যান দেশসেরা বাঁহাতি স্পিনার। তাকে সাকিব আল হাসান ও আব্দুর রাজ্জাকদের পথ প্রদর্শক বললেও হয়ত ভুল বলা হবে না। ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ও ২০১০ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটকে বিদায় বলা সেই রফিক এখন কেমন আছেন?
মোহাম্মদ রফিক বিডিক্রিকটাইম
৪৯ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটারের স্ত্রী ছাড়াও পরিবারে আছেন দুইজন করে পুত্র-কন্যা। বড় মেয়ে ও বড় ছেলের বিয়েও দিয়েছেন। ৩৩টি টেস্ট ও ১২৫টি ওয়ানডেতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এই সাবেক ক্রিকেটার সম্প্রতি নাম লিখিয়েছেন কোচিংয়ে। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে কোচিং করাচ্ছিলেন।
Also Read - থুতু ও ঘামের ব্যবহার নিষিদ্ধ করল অস্ট্রেলিয়া





করোনাভাইরাসের কারণে শুধু কোচিংই নয়, বন্ধ হয়ে গেছে রফিকের ব্যবসাও। বৈশ্বিক এই সংকটে কীভাবে দিন পার করছেন? বিডিক্রিকটাইমকে জানিয়েছেন এই নিভৃতচারী ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব।
রফিক বলেন, ‘ব্যবসা করি লোন নিয়ে। গত তিন মাস ধরেই ব্যবসার অবস্থা ভালো না। ব্যাংক তো আর আমাকে ছাড় দিবে না, ব্যাংকের ইন্টারেস্ট তো বাড়ছেই। যে টাকার মালামাল এনেছিলাম সব পড়ে আছে। প্রায় ছয় মাস হল মালামাল এনেছি, এখন তো সেগুলো বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ছয় মাসে ব্যাংকে ইন্টারেস্ট কত হতে পারে বোঝেনই তো। শেখ জামালে কোচ ছিলাম। প্রিমিয়ার লিগ হলে এখান থেকে কিছুটা আয় হত।


নিজের আয়ের পথ বন্ধ থাকলেও তার ব্যবসায় যারা শ্রম দিতেন, সেই কর্মচারীদের পারিশ্রমিক এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন। সাধ্য অনুযায়ী সংকটে পড়া পাড়া-প্রতিবেশীর দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র শতকের স্মৃতিবিজড়িত ব্যাট তুলবেন নিলামে। দেশের ক্রিকেটের কিংবদন্তীতুল্য এই ব্যক্তিত্বের সাথে ক্রিকেট অঙ্গনের অবশ্য এত যোগাযোগ নেই।
আক্ষেপ নিয়ে রফিক জানান, ‘আমি মিথ্যা বলতে পারি না। আসলে কেউই কোনো যোগাযোগ করে না। কোনো আলোচনাও করে না। চিন্তা করি- ওদের বিরক্ত করে তো লাভ নেই। যারা আমার সাথে কথাবার্তা বলে না তাদের তো ফোন দেওয়ার দরকার নেই। দুনিয়াটা এখন বহুরূপী হয়ে গেছে। মানুষ এখন টাকার পেছনেই বেশি দৌড়ায়। আমাদের বাবা-মা কিন্তু এটা শেখাননি। তারা শিখিয়েছেন সৎ ও সঠিক পথে চলতে। এজন্য কখনো পয়সার পেছনে দৌড়াইনি।’
অন্য সাবেক ক্রিকেটাররা ক্রিকেট অঙ্গনকেই আঁকড়ে ধরেন। রফিকে এই প্রবণতা ছিল কমই। প্রিমিয়ার লিগ আবার শুরু হলে হয়ত ফেরা হবে কোচের ভূমিকায়। ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের অনেক কারণ থাকলেও রফিক উদ্বিগ্ন হতে নারাজ। বললেন, ‘এসব নিয়ে চিন্তা করি না। আল্লাহ এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো রেখেছেন। পরেরটা এখন এত ভাবি না। অভাব দেখি না। ছোট থেকে কষ্ট করে বড় হয়েছি। কিন্তু এখনো অভাব কী জিনিস জানি না, আলহামদুলিল্লাহ্‌।’
মোহাম্মদ রফিক বিডিক্রিকটাইম
১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে ক্রিকেটের ইতিহাস গড়েছিলেন যারা, তাদের একজন রফিকও। সেই দলের হয়ে ইতিহাসের অংশ হওয়ার আগে অবশ্য মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে গিয়েছিল। বাম পা এখনো ভোগাচ্ছে। চিকিৎসকরা তখনই খেলা থেকে বিরতি নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আইসিসি ট্রফিতে খেলেছি প্লাস্টার দিয়ে। দুই অ্যাঙ্কেল ভেঙে গিয়েছিল। মুম্বাইয়ে চিকিৎসক অরুণ জোশি বলেছিলেন- রফিক, ৩-৪ মাস সময় দিতে হবে। এক বছর দেশে সালাম তালুকদারকে দেখাতাম।’ খেলাপাগল রফিক সেই পরামর্শ আমলে নেননি। কাজ চালানোর মত চিকিৎসা নিলেও স্থায়ী চিকিৎসা নেওয়া হয়নি।
খেলার প্রতি ছিল অবাধ্য প্রেম, আর তেমনি খানিকটা উদাসীন ছিলেন ভবিষ্যৎ নিয়ে। দেশের ক্রিকেটের কিংবদন্তী হয়েও রফিককে তাই ঘুমোতে যেতে হয় ব্যাংকের লোনের বোঝা মাথায় নিয়ে। খেলা ছাড়ার পর অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও ইঞ্জুরি ভোগায় তাকে এখনো।
‘আমি যে অবস্থায় খেলেছি সেই অবস্থায় বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কেউ খেলবে কি না সন্দেহ আছে। এখনো আমার পায়ে যন্ত্রণা হয়। ঘুম থেকে উঠলে বাথরুমে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যেতে পারি না, ১৫-২০ মিনিট ব্যথা হয়। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাথরুমে যাই।’– বলেন রফিক।
সূত্র : বিডিক্রিকটাইম
শেয়ার করুন