যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ'র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তিনি মোহাম্মদপুরে তাঁর বাবার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন। আর এ মাদ্রাসা থেকেই রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাঁকে নিয়ে গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁরা মামুনুল হককে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে গ্রেফতার দেখাতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সামাজিকমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে- ছাত্রলীগ-এর সহ-সভাপতি তিলোত্তমা সিকদার তাঁর ফেসবুকে এমন একটি পোস্ট দিয়েছেন বলে একটি টেলিভিশন চ্যানেল-এর অনলাইনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরের সংগে ওই পোস্ট-এর একটি স্ক্রিনশট যুক্ত করা হয়েছে, যাতে লেখা হয়েছে, মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হক-কে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। যদিও পরে তিলোত্তমা সিকদার-এর ফেসবুকে ওই পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মামুনুল হক-এর ব্যক্তিগত সহকারী আতাউল্লাহ আমীন রাত ১টা ৫০ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছেন, মাবুদ তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী। আমাদের ভয় পাবার কিছু নেই। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সবাই আল্লাহর কাছে দুই হাত উঠিয়ে দোয়া করুন। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেকেই মামুনুল হক-গ্রেফতার হয়েছেন বলে ধারণা পোষণ করেছেন।
ওই পোস্টের মিনিট বিশেক পর ফেসবুকে আরো একটি পোস্ট দেন আতাউল্লাহ। সেখানে তিনি লেখেন, একটু আশার বানী....অপেক্ষা। আল্লাহ সহায়।
মামুনুল হক-এর বিরুদ্ধে গত তিন দিনে আলাদা ৪টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ ও দুই ভুক্তভোগী। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হোটেলকাণ্ড ও হেফাজতের তাণ্ডবের জন্য দায়ী করে মামলাগুলো হয়েছে। এসব মামলার কোনোটিতে মাওলানা মামুনুল হককে হুকুমের আসামি আবার কোনোটিতে প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা হিসেবে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাভিশন ডিজিটালকে জানিয়েছিলেন, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর প্রাথমিক তদন্ত চলছে। তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তবেই গ্রেফতার করা হবে, তার আগে নয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে গত ২৬ মার্চ পুলিশের সাথে হেফাজতকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম নেতা মামুনুল হকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৫ এপ্রিল রাতে পল্টন মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা টাইলস ব্যবসায়ী খন্দকার আরিফ-উজ-জামান। বায়তুল মুকাররমে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন দাবি করে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মাওলানা মামুনুল হকের নির্দেশে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আক্রমণকারীরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দৃষ্টি আকর্ষণ এই সাইটে সাধারণত আম’রা নিজস্ব কোনো খবর তৈরী করি না..আম’রা বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবরগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি..তাই কোনো খবর নিয়ে আ’পত্তি বা অ’ভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।
